নামাজ

নামাজ 


ঈমানদার মুসলমানদের জন্য নামাজ একটি শারীরিক আবশ্যকীয় ইবাদত। ঈমান গ্রহণের পর উপযুক্ত মুসলমান নর-নারীর জন্য নামাজ একটি ইবাদত। পবিত্র কোরআন শরিফে বারবার নামাজ কায়েম করতে ঈমানদার মুসলমানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নামাজ একটি দৃশ্যমান ইবাদত, নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন যে, নামাজ মোমিনদের জন্য বেহেস্তের চাবি। নামাজকে মুসলমানদের জন্য মিরাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নামাজ আদায় এবং প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত আছে, হাদিসে আছে নামাজকে দ্বীনের স্তম্ভ বলা হয়েছে। একজন মুসলমান নর-নারীর পরিচয় নামাজের মাধ্যমে পাওয়া যায়। কোনো ঈমানদার মুসলিম নর-নারী ইচ্ছা করে নামাজ ছেড়ে দিতে পারে না। ঈমানদার এবং কাফেরদের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে নামাজের মাধ্যমে। ইসলামে নামাজ আদায় এবং প্রতিষ্ঠা করার গুরুত্ব ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয়েছে। নামাজ না পড়ার পরিণাম ভয়াবহ হিসেবে কোরআন এবং হাদিস শরিফে বর্ণনা করা হয়েছে। সময়মতো নামাজ আদায় না করার পরিণামও ভয়াবহ। নামাজ ঠিকভাবে আদায় করার জন্য কোরআন হাদিসের মধ্যে নামাজ সম্পর্কে অধ্যায় রয়েছে। সেগুলো শিখতে হবে। নামাজের নিয়মকানুন, ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, মুস্তাহাব ইত্যাদি জানতে হবে। নামাজের ভেতরে বাইরে পড়ার কী কী নিয়ম আছে তা অবশ্যই একজন নামাজি মুসল্লিকে শিখতে হবে। কোরআন শরিফ বিশুদ্ধভাবে পাঠ করা জানতে হবে। নামাজের জন্য পাঠিত সুরা বা আয়াত বিশুদ্ধভাবে শিখতে হবে। এক কথায় নামাজ প্রতিষ্ঠা করার আগে নামাজ সম্পর্কে সব নিয়মকানুন অবশ্যই একজন মুসলিম নর-নারীকে জানতে হবে। নামাজের উপকার হলো, যে ব্যক্তি সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মকানুন মেনে নামাজ আদায় করেবেন নামাজ তার জন্য কিয়ামতের দিবসে নামাজ সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াবে। তার কবর-হাশরের হিসাব-নিকাশ সহজ হবে। পরকালের সব আপদ ও বিপদে নামাজ তার পাশে থাকবে। দুনিয়ায় নামাজি ব্যক্তি দুনিয়াবি ইহকালীন কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে, রিজিক প্রশস্ত হবে। ব্যক্তি পরিবার এবং সামাজিকভাবে শান্তি পাবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে আয় রোজগারের মধ্যে উন্নতি হবে। আপদ বালা-মুসিবত থেকে সর্বদা মুক্তি পাবে। দুনিয়ার সুখ-শান্তি ওই ব্যক্তিই পাবে। পরকালের শান্তির পথ প্রশস্ত হবে। নামাজি ব্যক্তির পরিবার পরিজনের মধ্যে শান্তি বরকত অব্যাহত থাকবে। নামাজ পড়লে মনদিল প্রশান্তি পাবে। ঈমান, আমল, বিশুদ্ধ হবে। আল্লাহ এবং রাসুল (সা.) এর নিকট অধিকভাবে প্রিয় হবে। নামাজের মাধ্যমে পারিবারিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হয়। একজন ব্যক্তি নামাজ আদায় করলে তার মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হয়। খারাপ চিন্তা-চেতনা ধারণা দূর হয়। পারিবারিক সামাজিক রাষ্ট্রীয়ভাবে তিনি আলোকিত মানুষ হন। তাই তার পক্ষে কখনো ব্যক্তি সমাজ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। আলোকিত পরিবার সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নামাজ কায়েম ও প্রতিষ্ঠা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে আমরা গ্রহণ করতে পারি। সমাজে নামাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ হতে অন্যায় অনাচার দূর করা সম্ভব। পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত নামাজ কায়েমের মাধ্যমে সমাজের অশ্লীলতা বেহায়াপনা, চুরি ডাকাতি হাইজ্যাক রাহাজানি-ধোকাবাজি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পরিবার, সমাজে নামাজ প্রতিষ্ঠা এবং প্রচলন থাকলে নারীর প্রতি অসম্মান দূর হবে। নারী-পুরুষে সুসম্পর্ক বিরাজ করবে। আজকের সমাজে অব্যাহত সন্ত্রাস, খুন-খারাবি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ থাকবে। নামাজের সুফল মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা হবে। ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হবে। অন্যের হক নষ্ট-ধ্বংস-আত্মসাৎ করার চিন্তা-চেতনা মুক্তি পাবে। মানসিক সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাজে নামাজ কায়েম করলে বর্তমানে যে পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেছনে রাষ্ট্রীয় এত প্রচুর অর্থ খরচ হচ্ছে তা খরচ করতে হবে না। কারণ নামাজ মানুষের জন্য একটা বাস্তব প্রশিক্ষণ, নামাজে যা পাঠকরা হয় আর যা কিছ শিখানো হয় সবকিছ মানবকল্যাণের জন্য। একজন মুসলমান নামাজ পড়ে অন্যের হক ধ্বংস করতে পারে না। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে না। নামাজ এবং নামাজি ব্যক্তির কাজ হলো ভালো সত্য সুন্দর সহজ পথে পরিচালনা করা। অন্ধকার কঠিন মিথ্যা পরিহার করা। নামাজের মাধ্যমে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। নামাজ আদায় ও প্রতিষ্ঠার মধ্যে পারিবারিক সামাজিক রাষ্ট্রীয় শান্তি রয়েছে। সামাজিক শান্তি আর শৃঙ্খলা, ঐক্য সংহতির জন্য নামাজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসি।