ইমান আনার পর কুফুরি করা

 

ইমান আনার পর কুফুরি করা

একটা কথা আছে না স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। ইমান, হেদায়েতও অনেকটা সেরকমই। এরকম হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘মানুষের নিকট এমন একটি সময় আসবে, যখন জ্বলন্ত আগুনের স্ফুলিঙ্গ হাতের মুষ্ঠির মধ্যে রাখার মতই দীন নিয়ে টিকে থাকা কঠিন হবে।'[8]

আল্লাহ (ﷻ) কুরআনে বলেছেন,

তারা ঈমান এনেছিল তারপর কুফরী করেছিল। ফলে তাদের অন্তরসমূহে মোহর লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই তারা বুঝতে পারছে না।[সুরা মুনাফিকুন আয়াত ৩]

যে ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফরী করেছে এবং যারা তাদের অন্তর কুফরী দ্বারা উন্মুক্ত করেছে, তাদের উপরই আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাআযাব। ঐ ব্যক্তি ছাড়া যাকে বাধ্য করা হয় (কুফরী করতে) অথচ তার অন্তর থাকে ঈমানে পরিতৃপ্ত। এটা এ জন্য যে, তারা আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে পছন্দ করেছে। আর নিশ্চয় আল্লাহ কাফির কওমকে হিদায়াত করেন না। এরাই তারা, যাদের অন্তরসমূহ, শ্রবণসমূহ ও দৃষ্টিসমূহের উপর আল্লাহ মোহর করে দিয়েছেন এবং তারাই হচ্ছে গাফেল।[সুরা নাহল আয়াত ১০৬-১০৮]

আল্লাহ কীভাবে হেদায়াত করবেন সে সম্প্রদায়কে, যারা ঈমান আনার পর ও রাসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর কুফর করে? আর আল্লাহ যালেম সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেন না।  নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে তারপর তারা কুফরীতে বেড়ে গিয়েছে তাদের তওবা কখনো কবুল করা হবে না। আর তারাই পথ ভ্ৰষ্ট।[আলে ইমরান আয়াত ৮৬-৯০]

অবশ্য উপরিউক্ত সুরা আলে ইমরানের আয়াত আল্লাহ  পরবর্তীতে রহিত করে আমাদের জন্য কিছুটা সহজ করে দেন বিধানটি।[9] এরপর আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা একবার ঈমান এনে পরে পুনরায় কাফের হয়ে গেছে, আবার ঈমান এনেছে এবং আবারো কাফের হয়েছে এবং [অন্তরের] অবিশ্বাস বৃদ্ধি করেছে, আল্লাহ্ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না, তাদের সৎ পথও দেখাবেন না।[10]

অর্থাৎ ইমান আনার পর দুইবার কুফুরিতে ফিরে গেলে সে আর হেদায়েত না পাওয়ার বিষয়ে মোটামুটি নিশ্চয়তা রয়েছে। আবার এরা ছাড়াও মুনাফিকদের অন্তরেও মোহর মেরে দেওয়া হয়।[11]