বিসমিল্লাহির রহমানীর রাহীম
মানুষ স্বভাবতই ক্ষমতা, খ্যাতি ও সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। দুনিয়ার ক্ষমতা অনেকের কাছে এক স্বপ্ন, আবার কারো কাছে এক ধরনের মোহ। তবে ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়—এই দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী এবং এর সব কিছু নিঃশেষ হয়ে যাবে। কোরআন ও হাদিসে বারবার বলা হয়েছে, আল্লাহই একমাত্র চিরস্থায়ী ও পরাক্রমশালী, আর দুনিয়ার সব শক্তি, সামর্থ্য, রাজত্ব ও প্রতিপত্তি একদিন শেষ হয়ে যাবে।
দুনিয়াবি ক্ষমতা : একটি ক্ষণস্থায়ী বাস্তবতা
মানুষের অর্জিত ক্ষমতা, রাজত্ব বা নেতৃত্ব—সবই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনশীল। ইতিহাসে আমরা দেখি—ফেরাউন, নমরুদ, কারুন, হিটলার বা সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের আজ আর কিছুই নেই—তারা সবাই ইতিহাসের অংশ। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন—‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আর আমি তোমাদের পরীক্ষা করি মন্দ ও ভালো দ্বারা এবং তোমরা আমার দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে।
সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৩৫)
এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয় মানুষের জীবনের সব অর্জন এক পরীক্ষার অংশমাত্র, যা মৃত্যুর পর কোনো মূল্য বহন করবে না যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য না হয়।
ক্ষমতার প্রকৃত মালিক আল্লাহ তাআলা
আল্লাহ তাআলাই মালিক। তিনি ইচ্ছা করলে কাউকে সম্মান দেন, আবার ইচ্ছা করলে অপমানিত করেন। তিনি কাউকে ক্ষমতা দেন এবং আবার তা কেড়ে নেন।
কোরআনে ইরশাদ হয়েছে—‘বলুন, হে মালিকুল মুলক (সব কিছুর অধিপতি) আল্লাহ! তুমি যাকে চাও রাজত্ব দান করো এবং যাকে চাও রাজত্ব কেড়ে নাও; যাকে ইচ্ছা সম্মান দাও এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করো। সব কল্যাণ তোমারই হাতে, নিশ্চয়ই তুমি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।’
(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ২৬)
হাদিসের দৃষ্টিতে দুনিয়ার ক্ষমতা
রাসুলুল্লাহ (সা.) দুনিয়াকে ‘কাজের জায়গা’ বলে বর্ণনা করেছেন, যেখানে আখিরাতের ফসল বপন করতে হয়। তিনি দুনিয়ার ক্ষমতার মোহ থেকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘দুনিয়া মিষ্টি ও সবুজ (আকর্ষণীয়)। আল্লাহ তোমাদের এর মধ্যে খলিফা বানিয়েছেন, যাতে তিনি দেখতে পারেন তোমরা কেমন কাজ করো।
সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭৪২)
এ হাদিস দুনিয়ার সৌন্দর্য ও চ্যালেঞ্জ উভয়ই ফুটিয়ে তোলে। দুনিয়াবি ক্ষমতা একটা পরীক্ষা। অনেকেই এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হয় এবং অহংকারে পতিত হয়, যেমনটি ফেরাউন হয়েছিল।
ইতিহাসের পাঠ : ক্ষমতার পতন
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—দুনিয়াবি রাজত্ব যতই শক্তিশালী হোক না কেন, একসময় তা বিলীন হয়ে যায়। কারুন, ফেরাউন, হিটলার—সবাই ছিল একসময়ের পরাক্রমশালী শাসক, কিন্তু আজ তাদের ক্ষমতা, সাম্রাজ্য, বাহিনী কোথায়? কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের পূর্বে অনেক সম্প্রদায় গেছে; অতএব, দুনিয়ার মধ্যে ভ্রমণ করো এবং দেখো কেমন ছিল মিথ্যাবাদীদের পরিণাম।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৭)
এ আয়াত আমাদের চিন্তা করতে উৎসাহিত করে—দুনিয়ার শক্তি কখনো চিরস্থায়ী ছিল না এবং হবেও না।
ক্ষমতা হলে করণীয়
যারা দুনিয়ায় কোনো দায়িত্ব বা ক্ষমতা পান, তাদের উচিত তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যবহার করা। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
সুতরাং, দুনিয়ার ক্ষমতা এক বড় আমানত, যা সঠিকভাবে রক্ষা না করলে আখিরাতে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে।
আখিরাতের সফলতা : চিরস্থায়ী ক্ষমতা
আসল ক্ষমতা হলো আখিরাতের মুক্তি। যারা আল্লাহর বিধান মেনে চলে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতে চিরস্থায়ী রাজত্ব। আল্লাহ বলেন, ‘সেই দিন রাজত্ব শুধু তোমারই (আল্লাহর), এক মহাপরাক্রমশালী সত্তা।’
(সুরা : ইনফিতার, আয়াত : ১৯)
আখিরাতের রাজত্ব হবে চিরন্তন, যেখানে কোনো পতন নেই, কোনো পরাজয় নেই, আর কোনো ক্ষয় নেই। এই রাজত্ব অর্জন করতেই মানুষকে চেষ্টা করতে হবে।
আল্লাহর রাজত্ব চিরন্তন
দুনিয়াবি ক্ষমতা নিঃসন্দেহে একটি বাস্তবতা, কিন্তু তা চিরস্থায়ী নয়। ইতিহাস, কোরআন ও হাদিস এক বাক্যে ঘোষণা করে—ক্ষমতার মোহে বিভোর হয়ে অহংকারে ডুবে যাওয়া মানুষ শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়। আল্লাহর বান্দার উচিত ক্ষমতা পেলে কৃতজ্ঞ থাকা, ন্যায়বিচার করা এবং আখিরাতের প্রস্তুতি নেওয়া। ক্ষমতা যখন ফুরিয়ে যাবে, তখন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিই হবে প্রকৃত সফলতার চাবিকাঠি।
সুরা : গাফির, আয়াত : ১৬)
এই আয়াতই চূড়ান্ত ঘোষণা—সব ক্ষমতার অবসান ঘটে, কিন্তু আল্লাহর রাজত্ব চিরন্তন।
আমান টিউশন
বর্ধমান এ একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ।
এখানে ইংলিশ মিডিয়াম, বাংলা মিডিয়াম
বিবিএ, পড়ানো হয়।
সায়েন্স গ্রুপ