ওয়াসওয়াসা তথা শয়তানের কুমন্ত্রনার কবলে পতিত ব্যক্তি কিভাবে রেহাই পাবে

                                বিসমিল্লাহ 
আমান টিউশন গোলাপবাগ বর্ধমান 8101422342


আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত রসূল () বলেছেন- বনী আদমের অন্তরে ফেরেশতার পক্ষ হতে ইলহাম হয়। শয়তানও বনী আদমের অন্তরে কুমন্ত্রনা ঢেলে দেয়। ফিরিস্তা তার সাথে কল্যাণের ওয়াদা করে, সত্যের সত্যায়ন করে এবং অন্তরে ভাল কাজের বিনিময়ে ছাওয়াবের আশা-আকাঙ্খা জাগ্রত করে। শয়তানের কুমন্ত্রনা হচ্ছে অন্যায় কাজের ওয়াদা করা, সত্যকে অস্বীকার করা এবং কল্যাণ অর্জন থেকে নিরাশ করা। সুতরাং তোমরা যখন অন্তরে ফিরিস্তার ইলহাম অনুভব কর তখন আল্লাহর প্রশংসা কর এবং আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা কর।

আর যখন শয়তানের ওয়াসওয়াসা অনুভব কর তখন আল্লাহর কাছে শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর।[1]

উছমান বিন আবুল আস নাবী () কে বললেন- আমার মাঝে এবং আমার সলাত ও কিরাআতের মাঝে শয়তান প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।

নাবী () তখন বললেন- এই শয়তানের নাম হচ্ছে খিনযাব। যখন তুমি তার উপস্থিতি অনুভব করবে তখন আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর এবং তোমার বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ কর।[2]

সাহাবীগণ নাবী () এর কাছে অভিযোগ করলেন যে, তাদের অন্তরে এমন জিনিসের উদয় হয়, যা মুখে উচ্চারণ করার চেয়ে তার কাছে আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া অধিক প্রিয় বলে মনে হয়। নাবী () তখন বললেন- আল্লাহু আকবার। ঐ আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা, যিনি শয়তানের চক্রান্তকে ওয়াসওয়াসার দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। যার কাছে সৃষ্টি ও সৃষ্টিকর্তার ব্যাপারে ওয়াস্ওয়াসা এবং একের পর এক যদি এভাবে প্রশ্নের উদয় হয় যে, এই তো আল্লাহ্ সকল মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, তাহলে কে আল্লাহকে সৃষ্টি করেছে? এমন পরিস্থিতিতে তিনি কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করার আদেশ দিয়েছেনঃ

‘‘যদি শয়তানের পক্ষ থেকে তুমি কিছু কুমন্ত্রণা অনুভব কর, তবে আল্লাহর শরণাপন্ন হও। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’’[4]

শয়তান হচ্ছে দুই প্রকার। এক প্রকার শয়তানকে মানুষ চর্মচোখের মাধ্যমে দেখতে পায়। এরা হচ্ছে মানব জাতির অন্তর্ভুক্ত শয়তান। আরেক প্রকার শয়তান হচ্ছে, যা মানুষ চোখে দেখতে পায়না। এটি হচ্ছে জিন জাতির শয়তান (ইবলীস ও তার চেলারা)। মানুষ শয়তানের খপ্পর থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা নাবীকে তাদের থেকে দূরে অবস্থান করতে বলেছেন, সুকৌশলে এবং উত্তমভাবে তাদের মুকাবেলা করতে বলেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের আচরণে চোখ বন্ধ করে থাকার আদেশ দিয়েছেন। আর জিন শয়তানের অনিষ্ট হতে বাঁচার জন্য আল্লাহ্ তা‘আলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে। কারণ সে ধরা ছোঁয়ার বাইরে বলে বাহ্যিকভাবে তার মুকাবেলা করা সম্ভব নয়। মানুষ তার মুকাবেলা করতে সক্ষমও নয়। তাই তার মুকাবেলায় এমন শক্তির প্রয়োজন, যিনি তার লাগাম ধরে টান দিতে সক্ষম এবং তার চক্রান্তকে ব্যর্থ করতে খুবই পরাক্রমশালী। তিনি হচ্ছেন মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা‘আলা। সুতরাং এই প্রকার শয়তান থেকে বাঁচার জন্য একমাত্র আল্লাহর কাছেই আশ্রয় চাইতে হবে। কারণ তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তার উপর শক্তিশালী নয়। এ ক্ষেত্রে সুন্নাতে বর্ণিত সূরা নাস, ফালাক এবং বিভিন্ন যিকির-আযকার পাঠ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ্ তা‘আলা সুরা আ’রাফ, মুমিনূন এবং ফুস্সিলাতে এই উভয় প্রকার শয়তানকে একত্রে উল্লেখ করেছেন। সূরা আরাফে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন-


‘‘এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নাবীর জন্যে শত্রু করেছি শয়তান, মানব ও জিনকে। তারা ধোঁকা দেয়ার জন্যে একে অপরকে কারুকার্যখচিত কথাবার্তা শিক্ষা দেয়। যদি তোমার প্রতিপালক চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করতনা’’। (সূরা আনআম-৬:১১২)  

‘‘বিনয়ের সাথে আউযুবিল্লাহ পড়া কিংবা উত্তমভাবে প্রতিহত করাই হচ্ছে সর্বোত্তম পন্থা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে ঐ রোগের মহাঔষধ, যা চোখে দেখা যায়। আর প্রথমটি হচ্ছে এমন রোগের চিকিৎসা, যা থাকে চোখের আড়ালে’’