আমান টিউশন গোলাপবাগ বর্ধমান
8101422342.
। কুরআনে নেই এ যুক্তি দিয়ে হাদীস বর্জন করার ভয়াবহ পরিণতি থেকে প্রিয় নবী (সাঃ) উম্মাতকে সতর্ক করে গেছেন।
সাহাবী মিকদাম বিন মা'দীকারব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, অচিরেই এমন লোকের আবির্ভাব ঘটবে যে আরাম কেদারায় গা এলিয়ে বসে থাকবে (অর্থাৎ কষ্ট করে হাদীসের জ্ঞান অর্জন করবে না), আমার হাদীস সম্পর্কে তাকে বলা হলে সে বলবে, তোমাদের আর আমাদের মধ্যে ফায়সালার জন্য আল্লাহর কিতাবই (কুরআন) যথেষ্ট। তাতে যা হালাল হিসাবে বলা আছে, সেটাকেই আমরা হালাল মনে করব, আর তাতে যা হারাম হিসেবে বলা হয়েছে, শুধু সেটাকেই আমরা হারাম মনে করব। সাবধান, আল্লাহর রাসূল যা হারাম করবেন, সেটা আল্লাহ কর্তৃক হারাম করার মতই। - (আবু দাউদ/ তিরমিযী/ ইবনে মাযাহ/ দারেমী)।
শুধু হালাল, হারাম নয়, শরীয়তের যাবতীয় ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম জানার সূত্র যেমন কুরআন, তেমনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হাদীসও। স্বয়ং আল্লাহতায়ালা এ বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন একাধিক আয়াতে। যেমন তিনি এরশাদ করেছেন, ‘‘রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর, আর যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক...’’। -(হাশর : ৭)
আরেকটি হাদীসে নবী করীম (সাঃ) এরশাদ করেছেন, তোমাদের কাছে দুটো বিষয় রেখে গেলাম, সে দুটোকে অাঁকড়ে ধরলে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না, আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাত অর্থাৎ হাদীস। -(হাকেম)
হাশরের ময়দানে বিচারের আগে দুনিয়াতে মৃত্যুর আগে এবং মৃত্যুর পর বরযখী যিন্দেগীতে যে কোন অপরাধীকে যে কোন অবস্থায় শাস্তি দেয়ার অধিকার ও ক্ষমতা আল্লাহর অবশ্যই আছে। উপরোল্লিখিত আলোচনায় তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। কাজেই এ সংক্রান্ত বিপরীত কোনো যুক্তির অসারতা একেবারেই দিবালোকের মত সুস্পষ্ট।
আরেকটি যুক্তি হল, কবর আযাব সংক্রান্ত দৃশ্যগুলো শুধু কবরে সমাহিত ব্যক্তির সাথেই সামঞ্জস্যশীল। কিন্তু যেসব মানুষের মৃতদেহ সমাহিত করা হয়নি, চিতায় ভস্মীভূত করা হয়েছে অথবা বাঘের পেটে বা হাঙ্গরের উদরে হজম হয়ে গেছে, তাদের তো কবরই নেই, কবর আযাব হবে কোথায়! আর ফিরিশতা এসে প্রশ্নগুলো করবেন কিভাবে, কোথায়?
এসব প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে, কবরের যিন্দেগীকে দুনিয়ার যিন্দেগীর মত মনে করার কারণে। কবর অর্থাৎ বরযখ সে এক অন্য জগত। পার্থিব জগতের সাথে তার কোন মিল নেই। বরযখের যিন্দেগী সবার জীবনেই ঘটবে। যাকে কবর দেয়া হয়েছে তার জীবনে যেমন বরযখের যিন্দেগী হবে, যে বাঘের পেটে হজম হয়ে গেছে তার জন্যও একই বরযখের যিন্দেগী অনুষ্ঠিত হবে। সে যিন্দেগীর প্রকৃত অবস্থা দুনিয়ার বস্তুগত প্রক্রিয়ার মত হবে না। কাজেই দুনিয়ার প্রক্রিয়া ও উপায় উপকরণ হুবহু যেমন আখেরাতের জন্য প্রযোজ্য নয়, তেমনি তা বরযখের যিন্দেগীর জন্যও প্রযোজ্য নয়। এ তিন জগতের প্রত্যেকটির রয়েছে আলাদা সিস্টেম। এক জগতের সিস্টেম দিয়ে অন্য জগতকে বিচার করাটাই বড় ভুল। এমনকি যাদেরকে কবর দেয়া হয়েছে, তাদের লাশও তো পচে গলে শেষ হয়ে যাবে। তখন তাদের বরযখের যিন্দেগী যেভাবে হবে, যাদেরকে কবর দেয়া হয়নি, তাদের বরযখের যিন্দেগীও সে প্রক্রিয়াতেই হবে।
একজন নেক বান্দাহ আর একজন কাফের, মুনাফেক বা পাপিষ্ঠ ব্যক্তির কবর যদি একদম পাশাপাশি থাকে, তাহলে হাদীসের ভাষ্যানুযায়ী একজনের কবর হবে জান্নাতের টুকরার মত। অনেক প্রশস্ত করে দেয়া হবে, আলোকিত করে দেয়া হবে, বইতে থাকবে জান্নাতের সুবাতাস। আর আরেকজনের কবরকে সঙ্কুচিত করে দেয়া হবে, তা হবে জাহান্নামের গর্ত সদৃশ। সেখানে চলতে থাকবে আযাবের বিভীষিকা। পাশের কবরের এ বিভীষিকা তার প্রতিবেশীর শান্তিতে এতটুকুনও বিঘ্নতা সৃষ্টি করবে না। দুনিয়ার হিসেবে এটা কি করে সম্ভব! মৃত্যুর পরবর্তী যিন্দেগী, চাই সেটা বরযখ হোক আর আখেরাত- পুরোটাই গায়েব (অদৃশ্য)-এর অন্তর্ভুক্ত। এসব গায়েবের খবরের ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেছেন, (তারাই প্রকৃত মুত্তাকী) যারা গায়েবের প্রতি বিশ্বাস করে। এমন কোন যুক্তি প্রমাণ ও বিজ্ঞান নেই যা দিযে বরযখ ও আখেরাতের সবকিছুকে বুঝে তারপর ঈমান আনা যাবে, না হলে নয়। তাহলে গায়েবের উপর ঈমান আনা হলো কি করে? যা না হলে ঈমানই আনা হলো না। যার উপর সবকিছু নির্ভরশীল। তবে সময়মত সবই বুঝে আসবে যখন প্রকৃত পরিস্থিতির বাস্তব চেহারা সামনে আসবে ও তার মোকাবিলা করতে হবে। যখন গায়েবসমূহ প্রকাশিত হয়ে পড়বে। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, তোমার (চক্ষুর) পর্দা সরিয়ে দিয়েছি, আজকে তোমার দৃষ্টি সুতীক্ষ্ণ। (সূরা ক্বাফ : ২২)।
আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে সহীহ হাদীস অস্বীকার করার প্ররোচণা থেকে হেফাযত করুন। আমীন!
শুধু হালাল, হারাম নয়, শরীয়তের যাবতীয় ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম জানার সূত্র যেমন কুরআন, তেমনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হাদীসও। স্বয়ং আল্লাহতায়ালা এ বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন একাধিক আয়াতে। যেমন তিনি এরশাদ করেছেন, ‘‘রাসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর, আর যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক...’’। -(হাশর : ৭)
আরেকটি হাদীসে নবী করীম (সাঃ) এরশাদ করেছেন, তোমাদের কাছে দুটো বিষয় রেখে গেলাম, সে দুটোকে অাঁকড়ে ধরলে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না, আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাত অর্থাৎ হাদীস। -(হাকেম)
হাশরের ময়দানে বিচারের আগে দুনিয়াতে মৃত্যুর আগে এবং মৃত্যুর পর বরযখী যিন্দেগীতে যে কোন অপরাধীকে যে কোন অবস্থায় শাস্তি দেয়ার অধিকার ও ক্ষমতা আল্লাহর অবশ্যই আছে। উপরোল্লিখিত আলোচনায় তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। কাজেই এ সংক্রান্ত বিপরীত কোনো যুক্তির অসারতা একেবারেই দিবালোকের মত সুস্পষ্ট।
আরেকটি যুক্তি হল, কবর আযাব সংক্রান্ত দৃশ্যগুলো শুধু কবরে সমাহিত ব্যক্তির সাথেই সামঞ্জস্যশীল। কিন্তু যেসব মানুষের মৃতদেহ সমাহিত করা হয়নি, চিতায় ভস্মীভূত করা হয়েছে অথবা বাঘের পেটে বা হাঙ্গরের উদরে হজম হয়ে গেছে, তাদের তো কবরই নেই, কবর আযাব হবে কোথায়! আর ফিরিশতা এসে প্রশ্নগুলো করবেন কিভাবে, কোথায়?
এসব প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে, কবরের যিন্দেগীকে দুনিয়ার যিন্দেগীর মত মনে করার কারণে। কবর অর্থাৎ বরযখ সে এক অন্য জগত। পার্থিব জগতের সাথে তার কোন মিল নেই। বরযখের যিন্দেগী সবার জীবনেই ঘটবে। যাকে কবর দেয়া হয়েছে তার জীবনে যেমন বরযখের যিন্দেগী হবে, যে বাঘের পেটে হজম হয়ে গেছে তার জন্যও একই বরযখের যিন্দেগী অনুষ্ঠিত হবে। সে যিন্দেগীর প্রকৃত অবস্থা দুনিয়ার বস্তুগত প্রক্রিয়ার মত হবে না। কাজেই দুনিয়ার প্রক্রিয়া ও উপায় উপকরণ হুবহু যেমন আখেরাতের জন্য প্রযোজ্য নয়, তেমনি তা বরযখের যিন্দেগীর জন্যও প্রযোজ্য নয়। এ তিন জগতের প্রত্যেকটির রয়েছে আলাদা সিস্টেম। এক জগতের সিস্টেম দিয়ে অন্য জগতকে বিচার করাটাই বড় ভুল। এমনকি যাদেরকে কবর দেয়া হয়েছে, তাদের লাশও তো পচে গলে শেষ হয়ে যাবে। তখন তাদের বরযখের যিন্দেগী যেভাবে হবে, যাদেরকে কবর দেয়া হয়নি, তাদের বরযখের যিন্দেগীও সে প্রক্রিয়াতেই হবে।
একজন নেক বান্দাহ আর একজন কাফের, মুনাফেক বা পাপিষ্ঠ ব্যক্তির কবর যদি একদম পাশাপাশি থাকে, তাহলে হাদীসের ভাষ্যানুযায়ী একজনের কবর হবে জান্নাতের টুকরার মত। অনেক প্রশস্ত করে দেয়া হবে, আলোকিত করে দেয়া হবে, বইতে থাকবে জান্নাতের সুবাতাস। আর আরেকজনের কবরকে সঙ্কুচিত করে দেয়া হবে, তা হবে জাহান্নামের গর্ত সদৃশ। সেখানে চলতে থাকবে আযাবের বিভীষিকা। পাশের কবরের এ বিভীষিকা তার প্রতিবেশীর শান্তিতে এতটুকুনও বিঘ্নতা সৃষ্টি করবে না। দুনিয়ার হিসেবে এটা কি করে সম্ভব! মৃত্যুর পরবর্তী যিন্দেগী, চাই সেটা বরযখ হোক আর আখেরাত- পুরোটাই গায়েব (অদৃশ্য)-এর অন্তর্ভুক্ত। এসব গায়েবের খবরের ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেছেন, (তারাই প্রকৃত মুত্তাকী) যারা গায়েবের প্রতি বিশ্বাস করে। এমন কোন যুক্তি প্রমাণ ও বিজ্ঞান নেই যা দিযে বরযখ ও আখেরাতের সবকিছুকে বুঝে তারপর ঈমান আনা যাবে, না হলে নয়। তাহলে গায়েবের উপর ঈমান আনা হলো কি করে? যা না হলে ঈমানই আনা হলো না। যার উপর সবকিছু নির্ভরশীল। তবে সময়মত সবই বুঝে আসবে যখন প্রকৃত পরিস্থিতির বাস্তব চেহারা সামনে আসবে ও তার মোকাবিলা করতে হবে। যখন গায়েবসমূহ প্রকাশিত হয়ে পড়বে। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, তোমার (চক্ষুর) পর্দা সরিয়ে দিয়েছি, আজকে তোমার দৃষ্টি সুতীক্ষ্ণ। (সূরা ক্বাফ : ২২)।
আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে সহীহ হাদীস অস্বীকার করার প্ররোচণা থেকে হেফাযত করুন। আমীন!